বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, সকাল ৭:০৬
শিরোনাম :
বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদার নিয়োগ না করে অর্ধকোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপির বাড়ী যাতায়াত পথ ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়কের ভাঙ্গন ও ধ্বস প্রতিরোধে ঠিকাদার নিয়োগ না করেই বরাদ্দকৃত প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাইলিংয়ের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজেরাই লুটপাট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

গাবখান নদীর পশ্চিম তীরের সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থান নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বাঁশ দিয়ে তড়ি-গড়ি পাইলিং দেয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী ভাঙ্গনের পাইলিং বাঁশ দিয়ে করায় এই লুটপাটের অভিযোগ ওঠেছে। ৬ কিলোমিটার এই সড়কে জরুরী ভিত্তিতে পাইলিংয়ের জন্য ৭ টি প্যাকেজে ১২ টি অংশের পাইলিংয়ের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিপিএম পদ্ধতিতে কাগজে কলমে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে তা হচ্ছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী নিজেরাই দায়সারা ভাবে এই কাজ করে বরাদ্দ অর্থ লুটপাটের পায়তারা করছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, চলতি মাসের গত সপ্তাহে জরুরী ভিত্তিতে গাবখান নদীর ভাঙ্গনে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরা এই সড়কটি রক্ষায় পাইলিংয়ের বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দের পরিমান ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯১ টাকা। ৫জন ঠিকাদারকে এই কাজ দেয়া হয়। ৩১আগষ্টের মধ্যে এ কাজ শেষ করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

দক্ষিনাঞ্চল নৌ রুটের গাবখান চ্যানেল সংলগ্ন ঝালকাঠি-শেখেরহাট সড়কটি নিশ্চিহ্ন হতে চলছে। এলজিইডি বিভাগের আওতায় ৬ কিলো মিটারের এই সড়কটি সংস্কারের জন্য অনেক আগেই প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু কাজে লাগানো যাচ্ছেনা সড়কটির ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থ্যা না নেয়া যাচ্ছে।
গাবখান চ্যানেল তীরে সড়কটিতে প্রতিদিন ভাঙ্গনের পাশাপাশি গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে ভারী যানবহন চলাচল না করলেও নৌ রুটের ভারী ও মালবাহী জাহাজ চলাচল করছে গাবখান চ্যানেল দিয়ে। এতে পানির ¯্রােতে সড়কের মাটি ও গাছ ভেঙ্গে পরছে।বেহাল দশার এ সড়কটি নির্মানের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসির দীর্ঘ দিন থেকে।

গত ২২ আগষ্ট গাবখান নদী তীরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাইলিং কাজের কোন ঠিকাদারের কোন লোক নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী রায়হান খান কাজ দেখা শোনা করছেন। তিনি জানান, সাময়িক এবং জরুরী এই কাজের জন্য এই মূহুর্তে কোন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই কাজের সার্বিক পরিচালনা করছে। এসময় সেখানে রাস্তার ভাঙ্গনকূলে বাঁশ দিয়ে পাইলিং কাজের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোন স্থায়ী কাজ নয়। সাময়িক কাজ হওয়ায় বাঁশ ও গাছ দিয়ে পাইলিং দেয়া হচ্ছে।

গাবখান এলাকার বাসিন্দা পেশায় ঠিকাদার তপন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আঃ শুক্কুর ও কৃষক নাসির হাওলাদার পাইলিংয়ের নামে দূর্নীতি করে বরাদ্দ অর্থ লুটপাটের কথা জানিয়ে বলেন, বাঁশ দিয়ে পানি উন্নয়নবোর্ড নদী ভাঙ্গনের সড়কে পাইলিং দেয় আমরা এই প্রথম দেখলাম। এই পাইলিং কোন কাজে লাগবেনা কারন বাশ কিছু দিন পরেই পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

তাছাড়া পাইলিংয়ের বাঁশের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে এবং ভিতরে ফেলানো বালুর ব্যাগের চাপে নদীতে পাইলিং ও সড়ক দুটোই ধ্বসে পরবে। যদি দূরে সরিয়ে কংক্রিটের পাইলিং দিয়ে ভিতরে বালুর বস্তা ফেলা হতো তাহলেই কেবল ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।

এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দ লুটপাটের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বাঁশ পাইলিং শুধুই একটি বাহানা।আমরা এর প্রতিবাদ করলে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করবে কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা প্রতিবাদ করতে পারছিনা।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি পানি উন্নয় বোর্ডের উক্ত প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিভূতী চন্দ্র রায় জানান, গত সপ্তাহে জরুরী ভিত্তিতে এই পাইলিং কাজ শুরু করা হয়। উক্ত প্রকল্পের কার্যাদেশ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, কার্যাদেশ আমাকে না দেয়ায় আমার কাছে এর কোন তথ্য নেই।

নদী ভাঙ্গনে সড়কের পাইলিং কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড কংক্রিট/ব্লক না দিয়ে বাঁশ ব্যাবহার করায় তা কতটা মজবুত বা স্থায়ী হবে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান বলেন,৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাইলিংয়ের এই কাজ করা হচ্ছে।

অস্থায়ী ভাবে জরুরী ভিত্তিতে এই পাইলং কাজ করায় এতে বাঁশ ব্যাবহার করা হচ্ছে। পাইলিংয়ের ভিতরে জিওবি ব্যাগ ফেলানো হবে। যাতে রাস্তার মাটি ধূয়ে না যায়। আপনার দপ্তরে প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কাছে ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কার্যাদেশ না থাকার কারন কি জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।